সত্য ও সুন্দরের প্রতি আহ্বান

৩য় পর্ব: এক মুমিনের প্রতি অন্য মুমিনের যে ছয়টি হক

দারসুল হাদিস - ক মুমিনের প্রতি অন্য মুমিনের যে ছয়টি হক

 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لِلْمُؤْمِنِ عَلَى الْمُؤْمِنِ سِتُّ خِصَالٍ

يَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَشْهَدُهُ إِذَا مَاتَ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ

وَيَنْصَحُ لَهُ إِذَا غَابَ أَوْ شَهِدَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

অর্থ: আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক মুমিনের প্রতি আরেক মুমিনের হক হল ছয়টি। অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে, মারা গেলে তার জানাযায় হাযির হবে, তাকে ডাক দিলে সে সাড়া দিবে, যখন সাক্ষাৎ হবে তখন তাকে সালাম বিনিময় করবে, হাঁচি দিলে তার জওয়াবে দু’আ করবে এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সকল সময় তার কল্যাণ কামনা করবে। ( সূনান আত তিরমিজী: ২৭৩৭, মান-সহীহ)

৩য় পর্ব

وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ

অর্থাৎ একজন মুমিন যখন তার অপর মূমিন ভাইকে কোন ভালো কাজে ডাকবে অথবা কোন বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য ডাকে তবে তার ডাকে সাড়া দেয়া তার মুমিন ভাইয়ের উপর আবশ্যক।

মুমিন কোন দিকে ডাকবে ও কোন ডাকে সাড়া দিবে?

একজন মুমিন তার অপর মুমিন ভাইকে অবশ্যই কল্যাণের দিকেই ডাকবে। সুতরাং কোন মুমিনকে যখন কোন কল্যাণের দিকে আহবার করা হয় তার উচিৎ যথাসাধ্য সাড়া দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন

وما لكم لا تؤمنون بالله والرسول يدعوكم لتؤمنوا بربكم وقد اخذ ميثاقكم ان كنتم مؤمنين

অর্থ: আর তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আন না? অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনার জন্য ডাকছেন অথচ আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, যদি তোমরা ঈমানদার হও। [সূরা হাদীদ: ০৮]

ولتكن منكم امة يدعون الى الخير ويامرون بالمعروف وينهون عن المنكر واولئك هم المفلحون

অর্থ: আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে আর তারাই সফলকাম। [সূরা আলে ইমরান: ১০৪]

আর যদি কোন মুমিন অন্য মুমিনকে জাহিলিয়্যাতের দিকে ডাকে তবে তার পরিণতি জাহান্নাম। রাসূল (স.) বলেন,

وَمَنِ ادَّعَى دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّهُ مِنْ جُثَا جَهَنَّمَ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ صَلَّى وَصَامَ قَالَ ‏”‏ وَإِنْ صَلَّى وَصَامَ

অর্থ: যে ব্যক্তি জাহেলী যুগের ডাকে ডাকবে সে হল জাহান্নামীদের দলভুক্ত। জনৈক ব্যক্তি তখন বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে যদি সালাত (নামায) ও সিয়াম পালন করে তবুও? তিনি বললেনঃ যদিও সে সালাত (নামায) আদায় করে এবং সিয়াম পালন করে। [সূনান আত তিরমিজী, ইফা: ২৮৬৪]

সুতরাং উক্ত হাদীস প্রমাণ করবে যে, মুমিনতো শুধু কল্যাণের দিকেই ডাকবে। আর যখনই কোন কল্যাণ দিকে আহবান করা হবে তখনই মুমিনের তাতে সাড়া দেওয়া কর্তব্য।

হাদীসে উল্লেখিত দাওয়াত বলে কোন দাওয়াত বুঝানো হয়েছে?

অধিকাংশ আলেমদের মতে , আলোচ্য হাদীসে দাওয়াত বলতে ওলীমা তথা বিয়ের দাওয়াতসহ সকল খানা-পিনার দাওয়াতকেই বুঝিয়েছেন অথবা সামাজিক বা পারিবারিক কোন খাবার দাওয়াতের কথা বুঝানো হয়েছে।

নিকৃষ্ট ওয়ালীমা ও দাওয়াতে সাড়া না দেওয়ার পরিণতি:

ঐ ওয়ালীমার দাওয়াত কে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলা হয়েছে যে ওয়ালীমাতে শুধুমাত্র ধনীদের আয়োজন থাকে এবং আগমনকারীদের তথা মিসকীন ও অসহায়দের বাধা দেওয়া হয় এবং যাদের জন্য কোন আয়োজন থাকে না। হাদীসে রাসূলে কারীম (স.) বলেন-

‏ شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُمْنَعُهَا مَنْ يَأْتِيهَا وَيُدْعَى إِلَيْهَا مَنْ يَأْبَاهَا وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ ‏.‏

নিকৃষ্টতম খাদ্য হল ওলীমার খাদ্য যেখানে আগমনকারীদের বাধা দেওয়া হয়। আর অনিচ্ছুকদের দাওয়াত দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি দাওয়াতে সাড়া দেয় না সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাফরমানী করল। [সহীহ বুখারী, ইফা: ৩৩৯৪]

অন্য আরেকটি মাওকূফ হাদীসে এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى لَهَا الأَغْنِيَاءُ، وَيُتْرَكُ الْفُقَرَاءُ، وَمَنْ تَرَكَ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ওয়ালীমায় শুধুমাত্র ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে দাওয়াত করা হয় না সেই ওয়ালীমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে ব্যাক্তি দাওয়াত কবূল করে না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে নাফরমানী করে। [সহীহ বুখারী, ইফা: ৪৭৯৯]

উল্লেখিত দুটি হাদীসই প্রমাণ করে যে, কাউকে কোন ওয়ালীমা বা খাবারের দাওয়াত দেওয়া হলে তার অবশ্যই যাওয়া কর্তব্য। তবে এক্ষেত্রে যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে তিনি যদি কোন শরয়ী ওজরের কারণে যেতে না পারেন অথবা খাবার গ্রহণ করতে না পারেন, তবে দাওয়াত দানকারীর বারাকার জন্য দুআ করতে হবে। হাদীসে রাসূল কারীম (স.) এ বিষয় স্পষ্ট করে বলেন-

إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيُجِبْ فَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيُصَلِّ وَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا فَلْيَطْعَمْ

অর্থ: যখন তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয় সে যেন তাতে সাড়া দেয়। যদি সে সায়িম হয় তাহলে সে (ওখানে গিয়ে) দুআ সালাত-রত থাকবে। আর যদি সায়িম বা রোজাদার না হয় তাহলে সে আহার করবে। [সহীহ মুসলিম, ইফা: ৩৩৮৯]

অন্য হাদীসে আছে যদি সিয়ামরত অবস্থায় দাওয়াত আসে তবে সৌজন্যতা সাথে দাওয়াত ফিরিয়ে দেওয়া জায়েয।

إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ

অর্থ: তোমাদের সিয়ামরত কোন ব্যাক্তিকে যদি খানা খাওয়ার জন্য আহবান করা হয়, তবে তার বলা উচিত, আমি সাওম পালনকারী। [সহীহ মুসলিম, ইফা: ২৫৭৩]

তবে সম্ভব হলে উপস্থিত হয়ে তার জন্য দুআ করা।

যেমন : উসমান রা খলিফা থাকাকালীন মুগীরা ইবনে শুবা (রা.) এর গোলাম তাকে দাওয়াত তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। অথচ তখন তিনি ছিলেন রোজাদার। তিনি বললেন আমি তার ডাকে সাড়া দিবো এবং বারাকার দুআ করবো। অতপর তিনি রাসূল (স.) এর এই হাদীসটি উল্লেখ করেন-

إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيُجِبْ فَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيُصَلِّ وَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا فَلْيَطْعَمْ

অর্থ: যখন তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয় সে যেন তাতে সাড়া দেয়। যদি সে সায়িম (রোজাদার) হয় তাহলে সে (ওখানে গিয়ে) দুঃআ সালাত-রত থাকবে। আর যদি সায়িম না হয় তাহলে সে আহার করবে। [সহীহ মুসলিম, ইফা: ৩৩৮৯]

বিনা দাওয়াতে খাবার গ্রহণ :

কারো ঘরে বিনা দাওয়াতে খাওয়াতো দূরের কথা তার ঘরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করাও নিষেধ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারো ঘরে তার অধিবাসীদের সম্প্ৰীতিসম্পন্ন অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্ৰবেশ করবে না। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যাতে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ কর।  [সূরা আন নূর : ২৭]

আর কারো অনুমতি ব্যতিত তার ঘরে দাওয়াত খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। রাসূল (স.) বলেন,

أَلا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ

সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়। [মিসকাতুল মাসাবীহ : ২৯৪৬, মুসনাদে আহমাদ: ২০৬৯৫, শুআবুল ঈমান: ৫১০৫]

তাছাড়া যারা বিনা দাওয়াতে অন্যের ঘরে খাবার গ্রহণ করে তাদের ব্যাপারে রাসূল (স.) অত্যন্ত ভয়াভহ কথা বলেছেন। তিনি বলেন,

مَنْ دُعِيَ فَلَمْ يُجِبْ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَمَنْ دَخَلَ عَلَى غَيْرِ دَعْوَةٍ دَخَلَ سَارِقًا وَخَرَجَ مُغِيرًا

যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়, সে যদি তা কবুল না করে, তবে সে যেন আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করলো। আর যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে কোন খানা খায়, সে যেন চোর হিসাবে সেখানে প্রবেশ করে এবং লুন্ঠন করে ফিরে আসে। [সূনান আবু দাউদ, ইফা: ৩৬৯৯]

রাসূল (স.) এর ঘরেও অনুমতি ব্যতিত খাবার গ্রহণের বিষয়েও আল্লাহ তায়ালা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ

হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাবার-দাবার তৈরীর জন্য অপেক্ষা না করে খাওয়ার জন্য নবীর ঘরে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্ৰবেশ করো। [সূরা আহযাব: ৫৩]

আলোচ্য আয়াতও প্রমাণ করে যে, অতি পরিচিত কোন সম্মানিত মানুষের ঘরেও অনুমতি ব্যতিত খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

দাওয়াত খাওয়ার পর সেখানে অবস্থান করা কি জায়েজ?

فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنكُمْ ۖ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ

অর্থ: অতাঃপর খাওয়া শেষে তোমরা চলে যেও; তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না। নিশ্চয় তোমাদের এ আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়, কারণ তিনি তোমাদের ব্যাপারে (উঠিয়ে দিতে) সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। [সূরা আহযাব: ৫৩]

আলোচ্য আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, খাবারের পর বসে না থেকে চলে যাওয়াই উত্তম। আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়া মুমিনের প্রতি ইসলামী শিষ্টাচার। খাবারের পর বসে থাকা হারাম নয় বরং এটি ইসলামী শিষ্টাচারের বহির্ভূত আচারণ। কারণ এটি ঘর ওয়ালাদের জন্য এক ধরণের বোঝা। যা তাদের প্রতিনিয়ত চিন্তায় রাখে। বিশেষ করে যদি এক ঘর হয়, তবে এমন পরিস্থিতিতে ঘরের মহিলা ও অন্যান্যদের চলাফেরায় ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাঘাত ঘটে। তবে যদি বিশ্রাম নেওয়ার পৃথক কোন ঘর থাকে এবং ঘরের মালিকের অনুমতি থাকে তবে ভিন্ন কথা এবং দোষের পর্যায়ে পড়বেনা।

দাওয়াত ও উপরহার বিড়ম্বনা:

একজন মুমিন অন্য একজন মুনিমকে দাওয়াত দিবে এবং দাওয়াত প্রাপ্ত ব্যক্তি নিঃসংকোচে বিনা শর্তে সেই দাওয়াতে অংশগ্রহণ করবে। এটাই ইসলামের উদ্দেশ্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ইসলামে বিধিবদ্ধ এতো সুন্দর এই সামাজিক ইবাদত উপহার-উপটৌকন এর মারপ্যোঁচে পড়ে সাধারণ মানুষের নিকট দাওয়াত একটি আতঙ্কের অনুষ্ঠান হয়ে দাড়িছে। দাওয়াত প্রাপ্ত ব্যক্তি দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা মানেই হলো বাহারী রঙের কাগজে মোড়ানো উপহার বক্স বা কচকচে বড় অংকের টাকা দাওয়াত দাতার হাতে গুজিয়ে দেয়া। যিনি দাওয়াতের আয়োজন করেন তারও টার্গেট থাকে যেন তার দাওয়াতে আগত লোকদের থেকে এই পরিমাণ উপহার বা নগদ অর্থ আসবে যাতে তার অনুষ্ঠানের জাবতীয় খরছ উঠে আরো উদ্বৃত্ত থাকবে। আর তাই তিনি দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে সামর্থবান ও বিত্তশালীদের অগ্রাধিকা দেন। এটি একটি স্পষ্ট জাহিলিয়াত। কারণ রাসূল (স.) বলেছেন-

‏ شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُمْنَعُهَا مَنْ يَأْتِيهَا وَيُدْعَى إِلَيْهَا مَنْ يَأْبَاهَا وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ ‏.‏

নিকৃষ্টতম খাদ্য হল ওলীমার খাদ্য যেখানে আগমনকারীদের বাধা দেওয়া হয়। আর অনিচ্ছুকদের দাওয়াত দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি দাওয়াতে সাড়া দেয় না সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাফরমানী করল। [সহীহ বুখারী, ইফা: ৩৩৯৪]

উপহার দেয়া নেয়া সুন্নাত। কিন্তু উপহারের নামে মানুষকে মানসিক চাপে ফেলে তার থেকে অর্থ আদায় যুলুমেরই কাতারে পড়ে। হাদিয়া প্রদান সম্পর্কে রাসূল (স.) বলেন-

تَهَادَوْا فَإِنَّ الْهَدِيَّةَ تُذْهِبُ وَحَرَ الصَّدْرِ وَلاَ تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ شِقَّ فِرْسِنِ شَاةٍ ‏

“তোমরা পরস্পর হাদিয়া দিবে। কেননা, হাদিয়া অন্তরের ময়লা বিদূরিত করে। বকরীর খুরের একটি টুকরা হলেও সেটিকে কোন প্রতিবেশীনী তার অপর প্রতিবেশীনীর জন্য হাদিয়া প্রদানে হেয় মনে করবে না।” [সুনান আত তিরমিজী, ইফা : ২১৩৩]

অন্য হাদিসে রাসূল (স.) বলেন-

تَهَادُوْا تَحَابُّوا

“তোমরা অন্যকে হাদীয়া দাও। তাহলে আপোষে ভালবাসা সৃষ্টি করতে পারবে।” [বুলুগুল মারাম : হা/ ৯৩৫]

উপরোক্ত হাদিসদ্বয়ের প্রতি লক্ষ করলে স্পষ্ট হয় যে, হাদিয়া স্বপ্রনোদিত একটি উপটৌকন এবং তা দেয়ার মাধ্যমের মুমিনদের পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। কিন্তু হাদিয়া বা উপহারের নামে যে জাহিলিয়াতের চর্চা আমাদের সমাজে চলছে তা আমাদের মাঝে ভালোবাসা বৃদ্ধি নয় বরং আমাদের মাঝে ব্যবসায়ী একটি মনোভাব সৃষ্টি করছে। আর এই জন্য কিছু মানুষতো ছোট খাটো কোন একটি উপলক্ষকে সামনে রেখে মাহযোগ্যের আয়োজন করে বসে। আল্লাহ তায়ালা এমন জাহিলিয়াত থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।

লেখক, হাফেজ মাওলানা নুরুল হুদা
খতিব, বাইতুল গফুর জামে মসজিদ, মাদামবিবিরহাট চট্টগ্রাম।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.