সত্য ও সুন্দরের প্রতি আহ্বান

রমজান জিজ্ঞাসা – নবম পর্ব

 

রমজান জিজ্ঞাসা – নবম পর্ব

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! সম্মানিত রোজাদার ভাই- বোনেরা। আশা করছি সুস্থতার সাথে ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে পবিত্র রমজান মাস অতিবাহিত করছেন। আপনার সিয়াম সাধনাকে আরো সুন্দর ও পরিপূর্ণ করতে আমরা আপনার মনে জাগ্রত হওয়া রমজান নিয়ে নানা প্রশ্নের সমাধান নিয়ে আপনার নিকট হাজির হয়েছি।  কুরআন হাদিসের দলিল সংবলিত“ রমজান জিজ্ঞাসা” নামক প্রশ্ন উত্তর নিয়ে। আসা করছি আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আপনার সিয়াম সাধনাকে আরো সৌন্দর্য মন্ডিত করে তুলবে।

৮১. ‍ প্রশ্ন: সাহরি খাওয়ার বিশেষ কোনো দুআ আছে কি না?

উত্তর: খাদ্য গ্রহণের দুআ ব্যতীত সাহরির বিশেষ কোনো দুআ রাসূলুল্লাহ করেছেন বলে সুন্নায় কিছূই পাওয়া যায়না।

৮২. প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি সাহরী খাওয়ার জন্য ওঠেন নি। ফজরের নামাজও পড়েন নি। তিনি সিয়াম পালন করবেন কি না?

উত্তর: সিয়ামের জন্য শর্ত হলো নিয়ত করা। ব্যক্তি যদি পূর্বে থেকেই সিয়াম পালনের নিয়ত করে থাকেন তবে তার সিয়াম শুদ্ধ হবে। নচেত তার সিয়াম হবে না। আর শরয়ী কোন কারণে যদি ঘুম না ভাঙ্গে তবে ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে ফজরের সালাত আদায় করে নিতে হবে।

৮৩. প্রশ্ন: ইফতার দ্র্রুত করা সুন্নাত নাকি দেরিতে করা সুন্নাত?

উত্তর: রাসূল স: এর চিরচারিত নিয়ম ও সুন্নাত হলো ‍সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করতে হবে। বিলম্ব করা যাবেনা।

৮৪.প্রশ্ন: ইফতারের সময় কোন দোয়া পড়া সুন্নাত?

اَللّٰهُمَّ لَكَ صُمٛتُ وَعَلَى رِزٛقِكَ اَفٛطَرٛتُ

(অর্থ) হে আল্লাহ আপনার জন্য সিয়াম পালন করেছি এবং আপনার রিযিক দিয়েই আমি ইফতার করছি।

৮৫. প্রশ্ন: অপ্রাপ্ত বয়স্কদের রোজার হুকুম কি?

উত্তর: ছোট বা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য রোজা ফরজ নয়। তবে রোজার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য তাদের রোজা রাখতে দিতে হবে।

৮৬. প্রশ্ন: অনেকে বলে তারাবী না পড়লে রোজা হবেনা- কথাটা কতটুকু সঠিক?

উত্তর: এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। কারণ রোযা একটা এবাদত। আর তারাবী ভিন্ন আরেকটা ইবাদত। রোজা রাখা ফরজ আর তারাবী পড়া সুন্নাত। তারাবী না পড়লে রোজার কোন ক্ষতি হবেনা। তবে তারাবী না পড়ার কারণে একটা সুন্নাত তরক করার কারণে তার কিছু গোনাহ হতে পারে।

৮৭.প্রশ্ন: রোজা রেখে ধূম পান করা যাবে কি না?

উত্তর: ধোঁয়া অনেক রকম আছে। অনেক ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে আমাদের গলায় ঢুকে যায়। এটা পানাহার নয়। যেমন: গাড়ির ধোঁয়া। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নাক কান মুখ দিয়ে গভীরভাবে টেনে আহারের মতো দেহের ভিতরে প্রবেশ করায় তবে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এই ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত।

৮৮. প্রশ্ন: দাঁতের ভিতরে আটকে থাকা কোন খাবার গলায় চলে গেলে রোজা ভঙ্গ হবে?

উত্তর: একেবারে ক্ষুদ্র খাদ্যকণা,যেটা বোঝাই যায়না-এই খাদ্য পেটে গেলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যে খাদ্যকণা বড়,বোঝা যায়, অথবা ছোলা পরিমান, যা আপনার ঠেকানো সম্ভব ছিল ,এগুলো গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।

৮৯. প্রশ্ন: রোজা রেখে সিনেমা দেখলে বা অন্য কোন কবিরা গুনাহ করলে রোজা নষ্ট হবে কি না?

উত্তর: রোজা নষ্ট হয় দু’ভাবে। প্রথমত: যদি রোজদার পানাহর বা স্ত্রী সহবাসের মতো কিছু করে তবে তার  নষ্ট হবে এবং কাযা কাফফারা উভয় করতে হবে। দ্বিতীয়ত হলো যদি রোজাদার কোন কবিরা গুনাহের সাথে লিপ্ত হয় তবে বাহ্যিকভাবে রোজা নষ্ট হবেনা কিন্তু রোজার বরকত বা তাকওয়া নষ্ট হয়ে যায়, যার কাযা করতে হয়না । যেমনটি রাসূল স: ইরশাদ করেন:  صحيح البخاريمن لم يدع قول الزور والعمل به والجهل فليس لله حاجة في أن يدع طعامه وشرابه

‘‘ যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করল অথচ মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ পরিহার করতে পারলো না তার পানি ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা আল্লাহ তায়ালার কোন প্রয়োজন নেই।”

৯০. প্রশ্ন:   রোজা রেখে লিপস্টিক ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে কি না?

উত্তর: জি না । কারণ এটা পানাহারের বিষয় নয়। এর দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না।

লেখক, হাফেজ, মাও: নুরুল হুদা

কুরআনিক সায়েন্স এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম

খতিব, বায়তুল গফুর জামে মসজিদ, মাদামবিবির হাট, চট্টগ্রাম।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.