সত্য ও সুন্দরের প্রতি আহ্বান

রমজান জিজ্ঞাসা – দ্বিতীয় পর্ব

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! সম্মানিত রোজাদার ভাই- বোনেরা। আশা করছি সুস্থতার সাথে ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে পবিত্র রমজান মাস অতিবাহিত করছেন। আপনার সিয়াম সাধনাকে আরো সুন্দর ও পরিপূর্ণ করতে আমরা আপনার মনে জাগ্রত হওয়া রমজান নিয়ে নানা প্রশ্নের সমাধান আমরা আপনার নিকট হাজির হয়েছি  কুরআন হাদিসের দলিল সংবালিত“ রমজান জিজ্ঞাসা” নামক প্রশ্ন উত্তর নিয়ে। আসা করছি আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আপনার সিয়াম সাধনাকে আরো সৌন্দর্য মন্ডিত করে তুলবে।

রমজান জিজ্ঞাসা – দ্বিতীয় পর্ব

১১. প্রশ্ন: রোজা ভঙ্গের কারণ গুলো কি কি?

উত্তর:

ক. সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন প্রকার খাবার বা পানীয় রোযা ভেঙ্গে যায়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر ثم أتموا الصيام إلى الليل

আর তোমরা আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। ( সূরা বাকারা  ১৮৭)

খ. দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করলে, তবে রাত্রে স্ত্রী সহবাস করাতে কোন দোষ নেই। যেমন: আল্লাহ তায়ালা বলেন:

أحل لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم

অর্থাৎ: সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে।

গ. হায়েজ- নিফাস হওয়া।

ঘ. মুরতাদ হয়ে যাওয়া )ইসলাম থেকে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া)

ঙ. নাক বা মুখ দিয়ে কোন কিছু খাদ্য নালিতে চলে যাওয়া।

চ. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা ( এই ব্যাপারে চার মাজহাব ঐক্যমত পোষণ করেন)

১২. প্রশ্ন: কেউ যদি ফজরের নামাজের পূর্বে রোজা রাখার নিয়ত না করে তার রমজান কি শুদ্ধ হবে?

উত্তর: না তার সিয়াম শুদ্ধ হবে না। কেননা রাসূল (সা:) বলেছেন:

مَن لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له

যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোজার নিয়ত করেনি,তার সিয়াম হবেনা। (তিরমিজি,নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ)

১৩. প্রশ্ন: কেউ যদি মুখে উচ্চারণ না করে রোজা রাখার নিয়তে সাহরী খায়, তার রোজা হবে কি না ?

উত্তর: তার সিয়াম শুদ্ধ হবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে জড়িত। তাছাড়া কোন রোজাদার যদি রমজানের শুরুতে পূর্ণ একমাস রোজা রাখার নিয়ত করে এবং তা থেকে সরে না আসে তাহলে তার প্রতিদিন রমজানের নিয়ত করেছে বলে গন্য হবে। এছাড়া সাহরী গ্রহণ করাও সিয়ামের নিয়তের অন্তরর্ভূক্ত।

১৪. প্রশ্ন: রমজান মাসে সহবাস করা জায়েয?

উত্তর: হ্যাঁ। রমজান মাসে ইফতারের পর থেকে শেষ সময় পর্যন্ত স্ত্রী সহবাস জায়েয।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

أحلَّ لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم

অর্থাৎঃ তোমাদের জন্য রাতের বেলায় তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমনকে হালাল করা হয়েছে?

১৫.প্রশ্ন: সাহরী গ্রহণ করার পর ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে স্ত্রী সহবাস করা যাবে কি না?

উত্তর: হ্যাঁ। কারণ তখনও সুবহে সাদিক শুরু হয়নি। সিয়াম শুরু হয় সুবহে সাদিকের পর থেকে।

১৬ প্রশ্ন: কোন ব্যক্তির যদি স্বপ্নদোষ হয় আর এই অবস্থায় সে দেখে সেহরীর শেষ সময় প্রায় কাছাকাছি, তখন গোসল করবে না সেহরী খাবে?

উত্তর: অবশ্যই সাহরী খাবে। কারণ সাহরী গ্রহণ করার সাথে তাহারাত তথা পবিত্রতার কোন সম্পর্ক নেই। তাহারাতের সম্পর্ক হলো সালাত, কুরআন তেলাওয়াতের সাথে। যেমন: আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا

  (সালাতের সময়) যদি তোমরা যুনুব তথা অপবিত্র হও তবে গোসল করে নাও ( সূরা নিসা:০৬)

১৭. প্রশ্ন; কোন গর্ভধারিণী মা অথবা দুগ্ধপোষ্য সন্তান আছে এমন নারীর জন্য রোযার বিধান কি?

উত্তর: যদি গর্ভধারিণী মা অথবা দুগ্ধপোষ্য সন্তান ও মায়ের স্বাস্থের মারাত্মক কোন ক্ষতির আশংকা থাকে তবে তিনি রোজা ভাঙ্গতে পারবেন এবং ‍পরবর্ততীতে কাযা করতে হবে। কাফ্ফারার প্রয়োজন নেই। ( সুনানে আরবা)

১৮. প্রশ্ন: কোন ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে পারেনি এবং এ অবস্থায় মারা গেছে অথচ তার কাযা রোযা রয়ে গেছে তাহলে তার হুকুম কি?

উত্তর: তার উত্তারিধিকার অথবা তার অভিভাবক সে রোজা আদায় করে নিবে অথবা যতদিন রোজা ভেঙ্গেছে ততজন মিসকিনকে একদিনের খাবার দিয়ে দিবে। রাসূল স: বলেন:

مَن مات وعليه صيام صام عنه وليُّه

অর্থাৎ কোন ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার উপর রমযানের রোযা রয়ে গেল তাহলে তার অভিভাবকের উপর তা আদায় করা ওয়াজিব। (বুখারী ও মুসলিম)

১৯. প্রশ্ন: কেউ যদি বিমানে উঠার পর তা উড্ডয়নের আগে সময় হওয়ার কারণে ইফতার শুরু করে এবং বিমান উড্ডয়নের পর সূর্য় দেখতে পায় তবে তিনি কি করবেন?

উত্তর: তিনি তার ইফতার করতে থাকবেন। এ অবস্থায় তার রোজায় কোন ঘাটতি হবে না। (ফতোয়ায়ে ইবনে বায ও ইবনে উসাইমিন)

২০. প্রশ্ন : আমার পিতা বৃদ্ধ মানুষ বর্তমানে রমজানে দিনগুলো অনেক বড় এ অবস্থায় তাঁর রোজা রাখতে অনেক কষ্ট হয় এ অবস্থায় তাঁর করণীয় কি?

উত্তর: ‍যদি তিনি অন্য সময় অর্থাৎ ছোট দিনে রোজা রাখতে পারেন তবে তিনি সে সময় কাযা করে নিবেন। অন্যথায় ফিদয়া দিবেন অর্থাৎ একজন মিসকিনকে একমাসের খাবারের টাকা দিয়ে দিবেন। (ফতোয়ায়ে ইবনে বায ও ইবনে উসাইমিন)

লেখক, হাফেজ, মাও: নুরুল হুদা

কুরআনিক সায়েন্স এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম

খতিব, বায়তুল গফুর জামে মসজিদ, মাদামবিবির হাট, চট্টগ্রাম।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.