আপোষ-মীমাংসা করে দেয়া নামাজ-রোযা ও সদাকা অপেক্ষাও উত্তম
নামাজ-রোযা ও সদাকা অপেক্ষাও উত্তম
আপোষ-মীমাংসা করে দেয়া নামাজ-রোযা ও সদাকা অপেক্ষাও উত্তম
আজ মসজিদ উত তাকওয়ার প্রধান ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাফিজ মারুফ সাপ্তাহিক দারসুল হাদিস আলোচনায় উপরোক্ত বিষয়ে কুরআন থেকে সূরা নেসা (১১৪ ও ১২৮), সূরা আনফাল (১) ও সূরা হুজুরাত (১০) থেকে চারটা এবং অনেকগুলো হাদিস রেফারেন্সসহ উদ্ধৃত করেন। হাদিসগুলো রিয়াদুস সালেহীন থেকে আলোচনা করা হয়।
চলার পথে আমাদের স্বামী-স্ত্রী পরস্পর, পিতা- মাতার সাথে সন্তানের, ভাই-ভাই, ভাই-বোন, পাড়া-প্রতিবেশী ও নানাজনের মধ্যে গোলমাল ফ্যাসাদ হয়ে থাকে এবং সেটা স্বাভাবিক। এমন কিছু ঘটলে দ্রুত সংশোধন করে নেয়া মুমিনের দায়িত্ব। এর বাইরে অন্যান্যদের উচিত পরস্পরের মাঝে বিরোধ মিটিয়ে দেয়া এবং এই মীমাংসা করে দেয়া কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। ফজিলতের কথা বলতে গিয়ে তিনি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন নামাজ-রোযা ও সদকা করা অপেক্ষাও উত্তম। মিথ্যা ইসলামে অত্যন্ত ঘৃণিত। কিন্তু পরস্পর আপোষ-মীমাংসা করা কাজটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রয়োজনে মিথ্যা বললেও সেটাতে আর গুনাহ থাকে না, হয়ে যায় সওয়াবের।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের অনেক নেয়ামত দান করেছেন। শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অসংখ্য জোড়া রয়েছে। আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য আমাদের সদকা করতে হবে এবং পরস্পরের বিবাদ মেটানো একটি সদকা। আবার নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে এগিয়ে যেতে প্রতি কদমে সওয়াব, পথ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেয়া সদকা, কারো বোঝা বহনে সহযোগিতা করা সদকা। মূলত মানবকল্যাণে সাধিত সকল কাজই সদকা অর্থাৎ সওয়াবের। মানুষের দুঃখ-কষ্টে ব্যাথিত হওয়া ও খুশিতে নিজের খুশি প্রকাশ করাও সওয়াবের। পরস্পর বিবাদ-বিসংবাদ মিটিয়ে ফেলে নিজেদের মধ্যে সংশোধন করে নেয়ার জন্য তিনি তাঁর মুসল্লিদের প্রতি আহবান জানান।
Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.