ভোট একটি পবিত্র আমানত
ভোট কি একটি পবিত্র আমানত? ভোটের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক কী? ভোট একটি দাওয়াত?
ভোট একটি পবিত্র আমানত
আল্লাহপাক মানুষের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ দীন (জীবনব্যবস্থা) হিসেবে ইসলামকে (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন হলো ইসলাম- আলে ইমরান ১৯) মনোনীত করেছেন এবং তাঁর দাবি, মানুষ জীবনের সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম মেনে চলবে। এই মেনে চলা প্রসঙ্গে তাঁর বাণী, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা পুরোপুরি ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন’- সূরা বাকারা ২০৮। জীবনে চলার পথে যতটুকু ইসলাম অমান্য করা হয় ততটুকু শয়তানকে অনুসরণ করা হয়। যে ব্যক্তি সর্বান্তকরণে আল্লাহপাক প্রদত্ত এবং রসূলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত পথকে (ইসলাম) আঁকড়ে ধরে নিজের জীবন পরিচালনা করে তাকেই বলা হয় মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)। আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সা.)-এর কোনো বিধান তার সামনে আসলে সে বলে, ‘আমি শুনলাম ও মেনে নিলাম’- সূরা বাকারা ২৮৫। কোনো প্রশ্ন নেই, অজুহাত নেই নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের নামই ইসলাম। যে পারে না তার সাথে ইসলাম বা মুসলমানের কোনো সম্পর্ক নেই। পরিপূর্ণ না মেনে আংশিক মানার কোনো সুযোগ নেই। আংশিক মানার পরিণতি আল্লাহপাক বলে দিয়েছেন, ‘তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশ মানবে এবং কিছু অংশ অমান্য করবে, তাহলে দুনিয়ার জীবনে রয়েছে জিল্লতি ও আখিরাতে রয়েছে ভয়াবহ আজাব’- সূরা বাকারা ৮৫। আমাদের সমাজে আংশিক মানা লোকের সংখ্যাই বেশি। ফলে এই দুনিয়ার জীবনে অপমান, লাঞ্ছনা ও জিল্লতি আমরা পদে পদে ভোগ করছি।
চেতনা লাভের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পুরোপুরি ইসলাম মেনে চলা তখনই সম্ভব যখন জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত থাকে। সকল নবী- রসূলের জীবনের মিশন ছিল জমিনে আল্লাহর দীন কায়েম করা। আল্লাহর বাণী, ‘তিনি তোমাদের জন্য দীনের সেসব নিয়ম-কানুন নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নুহকে দিয়েছিলেন এবং (হে মুহাম্মদ) যা এখন আমি তোমার কাছে ওহির মাধ্যমে পাঠিয়েছি। আর যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুসা ও ইসাকে। তার সাথে তাগিদ করেছিলাম এই বলে যে, দীন কায়েম করো এবং এ ব্যাপারে মতপার্থক্য সৃষ্টি করো না’- সূরা শুরা ১৩। দীন কায়েমের প্রশ্নে কোনো মতপার্থক্য আল্লাহপাক মেনে নেবেন না। একজন মুসলিম দাবিদার ব্যক্তি দীন কায়েমের প্রচেষ্টা থেকে কখনো পৃথক থাকতে পারে না এবং দীন কায়েমের লক্ষ্যে সমাজে চলমান যে কোনো দলের সাথে সংযুক্ত থাকা তার ঈমানের দাবি। প্রচলিত কোনো দল পছন্দ না হলে নিজেই একটি দল গঠন করবে তারপরও বিচ্ছিন্ন থাকার কোনো সুযোগ নেই। মহান আল্লাহপাক সর্বশেষ নবী ও রসুল মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন একই নির্দেশ (দীন কায়েমের মিশন) দিয়ে এবং কুরআন মজিদের তিন জায়গায় সূরা তওবা (৩৩ নং), সূরা ফাতাহ্ (২৮ নং) ও সূরা সফে (৯ নং) স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। আল্লাহর বাণী, ‘তিনি আপন রসূলকে হেদায়াত ও সত্য-সঠিক জীবনব্যবস্থা (দীনে হক) দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে সকল জীবনব্যবস্থার ওপর একে বিজয়ী করে দিতে পারেন, মুশরিকদের কাছে তা যতই অসহনীয় হোক’- সূরা সফ ৯।
দীন কায়েম কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দীন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা-প্রচেষ্টাকে কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে ‘জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ’। আল্লাহপাক তাঁর পথে জিহাদকারীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাঁর বাণী, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহপাক তাদেরই ভালোবাসেন যারা সীসাঢালা প্রাচীরের মতো জামাতবদ্ধভাবে লড়াই করে’- সূরা সফ ৪। আল্লাহর পথে জিহাদকারী বান্দাকে সুস্পষ্ট ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে (সূরা সফ ১২)। আমাদের কাছে আল্লাহর আইন মওজুদ রয়েছে। এখন প্রয়োজন আল্লাহর আইন সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। ইসলাম ছাড়া আর যা কিছু আছে সবই বাতিল এবং ইসলামের বাইরে আল্লাহপাক কোনকিছু গ্রহণ করবেন না। ইসলাম বাদ দিয়ে যারা অন্য কিছু চায় তারাই মুশরিক এবং আল্লাহপাক স্পষ্ট করেছেন যে, দীন কায়েমের প্রশ্নে মুশরিকরা মুসলমানদের কখনো সহ্য করবে না। দীন কায়েমের স্বার্থে আল্লাহপাক মানুষকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। এক. মুসলিম এবং দুই. কাফের। আল্লাহর বাণী, ‘যারা ঈমানের পথ অবলম্বন করেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে। আর যারা কুফরির পথ অবলম্বন করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। কাজেই শয়তানের সঙ্গী-সাথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করো আর বিশ্বাস রেখো, শয়তানের ষড়যন্ত্র আসলেই দুর্বল’- সূরা নেসা ৭৬।
দীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নবী-রসূলদের মৌলিক কাজ ছিল, মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেয়া। সকল নবী-রসূলের একই দাওয়াত ছিল এবং সেটি হলো : তোমরা বলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই বা হুকুমকর্তা নেই)’। কোনো নবী-রসূলকে আল্লাহপাক সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করেননি বরং সবাই ছিলেন সন্ত্রাসের শিকার। রসূলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ তেরোটি বছর মক্কায় মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে একদল সৎ ও যোগ্য লোক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন কিন্তু মক্কায় ইসলামের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে পারেননি। সেখানে কর্তৃত্ব ছিল আবু জেহেল ও আবু লাহাবদের মতো কাফের-মুশরিকদের। পক্ষান্তরে মদিনার সাধারণ জনগণ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কর্তৃত্ব মেনে নেয় এবং আল্লাহপাক পর্যায়ক্রমে ইসলামের বিধি-বিধান(শরিয়ত) নাজিল করতে থাকেন। ফলে মদিনাবাসী ইসলামের সৌন্দর্য সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার লাভ করে।
বাংলাদেশ শতকরা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশ। কিন্তু এদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকায় জুলুম-নির্যাতন, সীমাহীন দুর্নীতি ও নানাবিধ পাপাচারে দেশে সয়লাব বয়ে চলছে। এদেশে গণতন্ত্র পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং সবসময় স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে ইসলামের পক্ষে রায় দেয়ার সুযোগ থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৫ই আগস্ট দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্রের পথে চলার এক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলাম জোর করে চাপিয়ে দেয়ার মতো কোনো বিষয় নয় বরং যে জনপদের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের পক্ষাবলম্বন করে মহান আল্লাহপাক দয়া করে সেখানে ইসলাম কায়েমের সুযোগ করে দেন। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তাদের আবেগ রয়েছে কিন্তু তাদের অজ্ঞতা এবং ইসলামপন্থী দল ও জনগোষ্ঠীর মাঝের মতানৈক্য ইসলামী শাসন কায়েমের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হয়। এবারে ইসলামপন্থী দলসমূহের একমঞ্চে আসার একটি সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিয়েছে। আগামী বছর যে কোনো সময়ে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটের লড়াই হবে সেকুলার বনাম ইসলামের। ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্য হলে সাধারণ জনগণের ইসলামের পক্ষে ঝুঁকে পড়াটা স্বাভাবিক।
রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসীদের অনৈতিক কাজে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। ফলে ভোট ডাকাতি, ভোট চুরি, প্রতিপক্ষের ভোটারের ভোটকেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে বাধাপ্রদান, মিথ্যা, ধোঁকা-প্রতারণায় তেমন গুনাহ অনুভব করে না। আর কাকে ভোট দেয়া হচ্ছে এ প্রসঙ্গে ভোটদাতারও তেমন উপলব্ধি নেই। ভোট একটি আমানত। ভালো-মন্দ বাছাই করার একটি সুযোগ। ভোট একটি সুপারিশ এবং ভোটদানের ক্ষেত্রে সওয়াব ও পাপ দু’টিই রয়েছে। আল্লাহর বাণী, ‘কেউ কোনো ভালো কাজে সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ রয়েছে, আর কেউ মন্দ কাজে সুপারিশ করলে তাতেও তার অংশ রয়েছে’- সূরা নিসা ৮৫। একটি মন্দ লোককে ভোটদানের ফলে তার সকল অন্যায়-অপকর্মের দায় ভোটদাতার আমলনামায় যোগ হবে।
আমরা যখন কাউকে ভোট দেই তখন এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করি যে, আমি যাকে ভোট দিচ্ছি আমার দৃষ্টিতে তিনি সর্বোত্তম ব্যক্তি। আমার এই সাক্ষ্যদান কখনই একজন দুর্নীতিবাজের পক্ষে হওয়া সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর বাণী, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতামাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও’- নিসা ১৩৫। তাই ভোটদানের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন, বংশ, এলাকা কোনকিছু বিবেচনাযোগ্য নয়। মিথ্যা সাক্ষ্যদান কবিরা গুনাহ। এব্যাপারে আল্লাহপাক হুশিয়ার করে দিয়েছেন। আল্লাহর বাণী, ‘তোমরা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকো’- সূরা হজ ৩০। তিনি আরো বলেছেন, হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অটল থাকবে এবং কোনো সম্প্রদায়ের আক্রোশের কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না’- সূরা মায়েদা ৮। হাদিসে মিথ্যা সাক্ষ্যদানকে শিরকের সমতুল্য বড়ো গুনাহ বলা হয়েছে।
ভোট একটি আমানত এবং এই অতি মূল্যবান আমানত যিনি প্রকৃত হকদার তাকেই প্রদান করতে হবে। আল্লাপাক সূরা আল মুমিনুনে মুমিনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আমানত ও অঙ্গীকারের কথা বলেছেন, ‘যারা নিজেদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারের ব্যাপারে যত্নবান।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করবে’- সূরা নিসা ৫৮।
ভোট একটি দাওয়াত এবং মুসলমান মাত্রই দায়ী ইলাল্লাহ। একজন সৎ ব্যক্তিকে ভোটদানের আহবানের মধ্য দিয়ে মূলত মানুষকে আল্লাহর দিকেই ডাকা হয়। আল্লাহপাকের বাণী, ‘তোমরা শ্রেষ্ঠতম জাতি, তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য, তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে’- সূরা আলে ইমরান ১১০। আদেশ দানের ক্ষমতা রয়েছে মূলত রাষ্ট্রশক্তির হাতে। আল্লাহপাক রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের আসনে তাঁর ঈমানদার বান্দাদের দেখতে চান। আল্লাহর আইন এবং সৎ লোকের শাসনের (ঈমানদারদের কর্তৃত্ব) মাধ্যমেই সম্ভব সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় দূর করা।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের দেয়া সংজ্ঞার সাথে (Government of the people, by the people, for the people গণতন্ত্র হলো জনগণের, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য সরকার) ইসলামের কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এবং পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র বলা হয় জনগণ সার্বভৌম পক্ষান্তরে ইসলামে বলা হয় মহান আল্লাহ হলেন সার্বভৌম। আল্লাহর দেয়া বিধানের বাইরে কোনকিছু করা ঈমানদারদের পক্ষে সম্ভব নয়। গণতন্ত্র হলো পরামর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থা। ইসলামে ডিকটেটরশিপ বা স্বৈরতান্ত্রের কোনো সুযোগ নেই। নবি মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহপাক মনোনীত। তারপরও আল্লাহপাক তাঁর নবিকে পরামর্শ করার জন্য তাগিদদিয়েছেন। আল্লাপাকের বাণী, ‘এটা আল্লাহর এক দয়া যে, তুমি এদের জন্যে ছিলে কোমল প্রকৃতির, তুমি যদি নিষ্ঠুর ও পাষাণ হৃদয়ের হতে, তাহলে এসব লোক তোমার আশপাশ থেকে সরে যেত, অতএব তুমি এদের অপরাধসমূহ মাফ করে দাও, এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং কাজকর্মের ব্যাপারে এদের সাথে পরামর্শ করো, অত:পর (সে পরামর্শের ভিত্তিতে) যখন একবার তুমি সিদ্ধান্ত নেবে তখন তার সফলতার জন্যে আল্লাহর ওপর ভরসা করো; অবশ্যই আল্লাহতায়ালা তাঁর ওপর নির্ভরশীল মানুষদের ভালোবাসেন’-আলে ইমরান ১৫৯।
কেবল রাষ্ট্র পরিচালনায় নয় একাধিক লোকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে জীবনের এমন সকল কাজকর্ম পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মুমিনের চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহপাক বলেন, ‘যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়, নামায প্রতিষ্ঠা করে, তাদের সামগ্রিক ব্যাপারসমূহ পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করে, আমি তাদের যে রেযেক দিয়েছি তা থেকে (আমারই পথে) ব্যয় করে (তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে)’-আশ শূরা ৩৮। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতামত প্রকাশের সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে ভোট সভ্য সমাজে সমাদৃত এবং জনগণ ইসলামের পক্ষে রায় দিলে মহান আল্লাহপাক ঈমানদারদের হাতে খেলাফত দান করবেন। আল্লাহপাকের ওয়াদাও রয়েছে। তাঁর বাণী, ‘আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদের দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দীনকে মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যে দীনটি আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা যেন শুধু আমার ইবাদত করে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে। আর যারা এরপরও কুফরি করবে তারাই ফাসেক’- সূরা নূর ৫৫। আল্লাহপাকের ওয়াদা স্পষ্ট। শর্ত হলো মুমিন হওয়ার সাথে সাথে নেক আমলকারী হতে পাবে। মুমিনের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা কাফের-মুশরিকদের হাতে থাকা স্বাভাবিক নয়। আল্লাহপাক মুমিনের যে চরিত্র বর্ণনা করেছেন আমরা তার ধারেকাছে নেই। সাথে সাথে জনপদের মানুষের ইসলামী খেলাফতের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দীন কায়েমের যে সুযোগ মুসলিম উম্মাহ লাভ করেছেন তা কাজে লাগানোর তৌফিক আল্লাহপাক আমাদের দান করুন। ০১.০৭.২০২৫।
প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী।
Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.